জয়পুরহাট চিনিকলের আধুনিক বয়লার কাজে আসছে না

প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জয়পুরহাট চিনিকলে ৪০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ছয়তলাবিশিষ্ট পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক বয়লার কোনো কাজে আসছে না। ছাই পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে জেলা শহরের কয়েক হাজার মানুষ। জয়পুরহাট চিনিকলটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬১ সালে। জেলা শহর ঘেঁষে উত্তর পাশে এটির অবস্থান হওয়ায় আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হলে বয়লারের উড়ন্ত ছাইয়ে বাসা-বাড়ি, রাস্তাঘাট, অলিগলি ভরে যায়। এতে চলাচলের অসুবিধার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। আবার উড়ন্ত ছাই চোখে পড়ে একদিকে যেমন চোখের ক্ষতি করে তেমনি নাক দিয়ে ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি হয় ফুস্ফুসের। উড়ন্ত ছাইয়ের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো হচ্ছে: কাশিয়াবাড়ি, কবিরাজপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, কুন্ডুপাড়া, শান্তিনগর, নতুনহাট, চিত্রাপাড়া, আরামনগর, ধানমন্ডি, মাস্টারপাড়া, জোব্বার মন্ডলপাড়া, সবুজনগর, প্রফেসরপাড়া, বিহারীপাড়া, আরাফাতনগর ও ইরাকনগর এলাকা।

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, চিনিকলের ছাই শক্ত হওয়ায় সহজে গলে না। বাতাসের মাধ্যমে নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে যায়। ফলে চোখ ও ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই ছাই। এতে ফুসফুসের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে বলেও জানান তিনি। জয়পুরহাট বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মধুসূদন সাহা ও মোছাঃ সানজিদা সুলতানা বলেন, চিনিকলের ছাই সিলিকন যুক্ত হওয়ায় এটি শক্ত হয়। গলে না যাওয়ায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই ছাই। তবে আধুনিক বয়লার ব্যবহার করে উড়ন্ত ছাই হাউজে জমা করার মাধ্যমে এই ছাই টাইলস তৈরির উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভব। শহরের বিশ্বাসপাড়া মহল্লার আবু বকর ও ফারজানা ইয়াসমিন জানান, উড়ন্ত ছাইয়ের কালিতে ঘরে চলাফেরা করা যায় না আবার নাক পরিষ্কার করার সময় শুধু ছাই বের হয়। পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য জেলাবাসীর দীর্ঘদিন ধরে দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন পরিবেশবান্ধব ও অত্যাধুনিক বয়লার নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *